মির্জাগঞ্জে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুকিঁ নিয়ে পাড়াপাড়



৭১বিডি২৪ডটকম ॥ মোঃ সোহাগ হোসেন;


মির্জাগঞ্জে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুকিঁ নিয়ে পাড়াপাড়


মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মির্জাগঞ্জ এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে তালতলী খালের ওপর বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে ঝুকিঁ নিয়ে চলাচল করছে দুইটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকার হাজারো লোকজন। পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ খালে পড়ে আহত হচ্ছে। বর্তমানে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে বাঁশের তৈরী সাকোঁ দিয়ে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদেরকে চলাচল করতে হচ্ছে। তালতলী খালটির পূর্বে খর¯্রােতা পায়রা নদীর সাথে মিলে গেছে। পায়রা নদীর জোয়ার কিংবা অমাবস্যা বা পূর্নিমার জোয়ারের সময়ে তালতলী খালটি তার আসল রুপ ফিরে পায়। এমনকি কোন ঘূর্নিঝড় ও নিম্নচাপের হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। এতে তালতলীর খাল উপচেয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন কাজ হয়নি বলে জানান ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বর্ষা মৌসুমে কোন মতেই সাকোঁ দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হয় না। জীবনের ঝকিঁ নিয়ে তবুও চলাচল থেমে থাকে না। এ নড়বড়ে সাকোঁ দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরীজীবি,হাট-বাজারের লোকজন পারপার হচ্ছে। এমনকি উত্তর পাড়ের মানুষ এবং দক্ষিন পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন কাজের জন্য সাকোঁ পার হয়ে যেতে সহজে হয়। প্রায় ২৫০ ফুট লম্বা বাশেঁর সাকোঁটি পারাপার হতে গিয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিশু,রোগী,বৃদ্ধা নারী-পুরুষ ও গর্ভবতী মহিলারা। তাছাড়াও খালের উভয় পাশের মানুষ তাদের উৎপাদিত খাদ্যেশস্য-কৃষিপন্যসহ বিভিন্ন প্রকার কাচাঁমাল স্থানীয় বাজার কিংবা দূরের কোন হাটে নিয়ে আসতে অসুবিধায় সম্মুখীন হন। অন্যদিকে স্কুলে যাতায়াতের সময় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা এক হাতে বই ও পায়ের জুতা নিয়ে পার হতে দেখা যায়। এতে ঝুকিঁময় সাকোঁ দিয়ে অনেকটা ভীতির মধ্যে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন,বিদ্যালয়টি খালের তীরবর্তী হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা বাশেঁর সাকোঁ পারাপার হলেও যে কোন সময়ে সাকোঁটি ভেঙ্গে বড় কোন দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র ঢালী বলেন, পায়রা নদীর পার দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। নদী যে হারে ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এ সব এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বেড়িঁবাঁধ ভাঙ্গনের কারনে জোয়ারের সময়ে একবারেই চলাচল করা যায় না। এখানে সাকোঁর পরিবর্তে ব্রীজ নির্মান করা হলে শিক্ষার পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়ন হবে।

পূর্ব মির্জাগঞ্জ এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়ের পিছনে তালতলী খালের ওপর নড়বড়ে সাকোঁ দিয়ে দুইটি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ছোট-ছোট কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পারাপার হতে দারুন অসুবিধায় পড়তে হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, ওই সাঁকো দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চলাচল করছে। অনেক সময়ে পথচারীরা পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে মির্জাগঞ্জে যতোগুলো বাঁশের সাঁকো রয়েছে তার একটি তালিকা তৈরী করে এলজিইউডি মন্ত্রানালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত তালতলী খালে উপর ব্রীজটি নির্মানের ব্যাবস্থা করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ